সিসি ডেস্ক : বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও লেখক অধ্যাপক মুহম্মদ জাফর ইকবাল বলেছেন, বঙ্গবন্ধু কোনো দলের নয়, তিনি হলেন সবার নেতা। শনিবার শোক দিবস উপলক্ষে আওয়ামীপন্থি ‘মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দে’র আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিকেল ৫টায় একাডেমিক ভবন বি’র রসায়ন বিভাগের সেমিনার কক্ষে এ আলোচনা সভা শুরু হয়ে চলে রাত ৮টা পর্যন্ত। তবে উপাচার্য অধ্যাপক আমিনুল হক ভূঁইয়ার পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জাতীয় শোক দিবসের কর্মসূচি পৃথকভাবে পালন করেন।
সভায় অধ্যাপক জাফর ইকবাল বলেন, আমি মনে করি না আমাদের হতাশ করার কোনো কারণ আছে। ৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার আগে বঙ্গবন্ধুকে দেশের টিভি চ্যানেলগুলোতে দেখানো হতো না। তাই আমাদের হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের দুঃসহ স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, যারা দেশের বিরোধিতা করেছে, জামায়াত বা অন্যান্য বিরোধিতাকারীরা কোনো অবস্থাতেই এদেশে রাজনীতি করতে পারে না। এদেশে স্বাধীনতার স্বপক্ষের দল ক্ষমতায় আসবে এবং এক্ষেত্রে তরুণ প্রজন্ম মূল ভূমিকা রাখবে বলে তিনি প্রত্যাশা করেন।
বর্তমান ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষাব্যবস্থার কথা উল্লেখ করে তা থেকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের প্রজন্ম গড়ে উঠবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। এছাড়া তিনি তরুণ প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধুর অসমাপ্ত আত্মজীবনী বেশি করে পড়ার আহবান জানান। এছাড়া যুদ্ধাপরাধীদের বিচার করায় তিনি সরকারের প্রশংসা করেন।
শিক্ষক সমিতির প্রাক্তন সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক ফারুক উদ্দীন ৭৫ এর নির্মম বাস্তবতার সঙ্গে বর্তমানে দেশের এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরাজমান পরিস্থিতির বিভিন্ন মিল তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে সত্যিকারের চেতনা লালনকারীর সংখ্যা খুবই নগণ্য।
মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ ফোরামের আহ্বায়ক অধ্যাপক সৈয়দ সামসুল আলম’র সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন অধ্যাপক ইয়াসমিন হক, অধ্যাপক ড. ইউনুছ, ড. আশরাফুল আলম, ড. আব্দুল আউয়াল বিশ্বাস, মো. ফারুক উদ্দীন প্রমুখ।
এর আগে ভিসি পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলনকারী মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উদ্বুদ্ধ শিক্ষকবৃন্দ জাতীয় শোকদিবস ও বঙ্গবন্ধুর ৪০তম শাহাদাৎবার্ষিকী উপলক্ষে তিনদিনব্যাপি কর্মসূচি গ্রহণ করে। গত বৃহস্পতিবার শোকর্যালি ও গতকাল শুক্রবার কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলের আয়োজন করা হয়।